ব্রেকিং নিউজ

img/news-single-img/post-img-01.jpg

ক্রমশ বাড়ছে পৃথিবীর গতি। তার সাথে তাল মিলিয়ে ছুটতে হচ্ছে আমাদেরও। পরিশ্রান্ত হয়ে থেমে যাওয়া বারণ। একবার থামলেই অনেকটা পিছিয়ে পড়তে হবে। সারাদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে চাপ বাড়ছে ঘরে বাইরে দুই ক্ষেত্রেই। শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি বেড়েই চলেছে মানসিক চাপ। আধুনিক পৃথিবীতে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যার ৷

ক্রমশ আমাদের সকলের জীবনে টেনশন, ডিপ্রেশন, প্রেশার ইত্যাদির পরিমাণ বাড়ছে। আর এইসব মিলিয়েই ক্রমশ বাড়ছে নানারকম শারীরিক অসুস্থতা। অল্প বয়স থেকেই নানারকম রোগ এখন মানুষের সঙ্গী। খেতে হচ্ছে ভুরিভুরি ওষুধ। তা সত্ত্বেও সব সমস্যা মিটছে না বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে এমন নানা রোগ দানা বাঁধছে শরীরে! তাহলে পথ কি এর থেকে নিস্তারের? বড় ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে দামিদামি ওষুধ, জিম এক্সারসাইজ সব উপায় অবলম্বন করার পরেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না ?

একবার ট্রাই করে দেখুন যোগব্যায়াম। এর উপকারিতাগুলি জানলে আপনি কাল থেকেই শুরু করবেন যোগা। 

এখন নানা জায়গায় উন্নত মানের বেশ কিছু যোগা ট্রেনিং সেন্টার হলেও এর উৎপত্তি প্রাচীন ভারতের মুনি ঋষিদের হাতে। সেই তখন থেকেই চলে আসছে যোগের ধারা। 'যোগ' শব্দের অর্থ হল একত্র করা। প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্র অনু্যায়ী ব্যক্তিসত্তার সাথে বিশ্বসত্তার মিলনের মাধ্যমে শান্তি অর্জনের নামই হল যোগ। আসলে যোগ হল, A way of living Based on physical and psychological Methods"।

আমরা দেখে নিই যোগসভ্যাসের ফলে কি কি উপকার পাওয়া যেতে পারে

 

  • আমাদের শরীরে প্রতিদিন নানা ভাবে নানা বর্জ্য পদার্থ জমা হয়৷ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার তার বেশিরভাগই বের হয়ে গেলেও কিছুটা টক্সিন হিসেবে শরীরের জমে থাকে এবং ক্ষতি করে শরীরে জমে থাকা এই বিষ (টক্সিন) দূর করতে যোগাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

  • বয়ঃসন্ধি বা তারপর মহিলাদের পিরিয়ডের সময়ে কখনও কখনও সুতীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। যা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে। এই ব্যথা নিরাময় করতে সাহায্য করে যোগ, নারীদের ডিম্বাশয়ও ভালো থাকে। ফলে প্রজননক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। সমস্যা বিহীন যৌন জীবন ও সন্তানধারণ নিশ্চিত করতে পারে যোগাসন।

 

  • এই সময়ের অন্যতম জটিল সমস্যা মানসিক চাপ  ও শারীরিক অস্বাভাবিকতা। এই মানসিক চাপ দূর করে মনে শান্তি বজার রাখতে যোগাসনের বিকল্প নেই।

 

  • শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে যোগাসন, ফলে শরীর থাকে সতেজ।

 

  • শরীর ও মনের একত্রকরণের মাধ্যমে যোগাসন কোনো একটি বিষয়ের প্রতি একাগ্রতা আনতে সহায়তা করে। আর এই একাগ্রতা বা কনসেনট্রেশানই যে কোনো কাজকে নিঁখুত ও সফল হতে সাহায্য করে।

 

  • শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

 

  • মনের চঞ্চলতা কমায়, ধৈর্যশক্তি বাড়ায়।

 

  • যোগাসন এর মাধ্যমে চিন্তা করার দক্ষতা বাড়ে এবং আমরা সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারি।

 

  • যোগাসন আমাদের পেটের অভ্যন্তরীণ  কার্যকরী শক্তি বৃদ্ধি করে। ফলে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

 

এছাড়াও শরীরের যে ব্যবস্থাগুলি যোগাসনের ফলে সরাসরি লাভবান হয় সেগুলি হল,

১) রক্তের যা কাজ তা ঠিকঠাক রাখে, অর্থাৎ, হেমোপয়েটিক সিস্টেম কে সচল রাখে।

২) হৃৎপিণ্ড থেকে শুরু করে সমগ্র দেহের সার্কুলেটরি সিস্টেম ঠিক রাখে। 

৩) নিঃশ্বাস প্রশ্বাস এর স্বাভাবিক ছন্দ অর্থাৎ রেসপিরেটরি সিস্টেম সঠিক ভাবে বজায় থাকে।

৪) আমরা যা খাবার খাই তার হজম ও পুষ্টি রস সারা দেহে বহন অর্থাৎ ডাইজেসটিভ সিস্টেম অ্যান্ড মেটাবলিজম প্রক্রিয়া কে ঠিক রাখে।

৫) শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের করে দেওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ অর্থাৎ  এক্সক্রিটরি সিস্টেম বজায় থাকে।

৬) বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া অর্থাৎ  রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেম ঠিকঠাক রাখে।

৭) হাড়ের গঠন ( স্কেলিট্যাল সিস্টেম) ভালো হয়।

৮) মাংসপেশি ( মাসকুলার সিস্টেম) ঠিকঠাক থাকে।

৯) ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়র কার্যকারিতা বজায় থাকে।

 

সুতরাং খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে, মানুষের শরীর ও মনের উপর যোগাভ্যাসের এক সুদুরপ্রসারি  প্রভাব পড়ে। তাই আর দেরী নয় এখনই যথাযথ নিয়ম মেনে আপনার শরীরের জন্য উপযুক্ত যোগাভ্যাস শুরু করে দিন।

You Might Also Like

Our Newsletter

স্কিল নিউজ