ব্রেকিং নিউজ

img/news-single-img/post-img-01.jpg

ভারতবর্ষে কাঁচ শিল্পের ইতিহাস অনেক অনেক প্রাচীন। গোটা পৃথিবীতে যখন কাঁচকে মাধ্যম করে শিল্পভাবনানচিন্তাভাবনাতেই নেই তখন থেকে অর্থাৎ মহেঞ্জোদারো সভ্যতার সময় থেকে ভারতীয় ভূখন্ডেঅল্পবিস্তর কাঁচ নিয়ে নানা শিল্পকর্মের নজির পাওয়া গিয়েছে। মনে করা হয়, আজ থেকে ৫০০০ বা ৭০০০ বছর আগে সিরিয়ায় প্রথম কাঁচ উদ্ভুত হয়। সেখান থেকে মিশর সেখান থেকে রোম হয়ে গোটা ইউরোপে কাঁচকে মাধ্যম করে নানা বাহার ছড়িয়ে পড়ে। ভারতে মূলত মুঘলদের হাত ধরেই বাণিজ্যিকভাবে কাঁচ শিল্পের প্রচলন।

 

১৭'র শতকে ভারতেরর ফিরোজাবাদ থেকে ভারতে প্রথম কাঁচ শিল্প শুরু হয়। এখনও তাই ফিরোজাবাদকেই ভারতের কাঁচের শহর হিসেবে অভিহিত করা হয়। বাল গঙ্গাধর তিলকের হাত ধরে প্রথম মহারাষ্ট্রে পাকাপোক্ত 'গ্লাস প্লান্ট' তৈরি হয়। তখন ১৯০৮ সাল। কিন্তু সে অর্থে বলতে গেলে এই শিল্পের প্রতি বৃটিশদের অত ঝোঁক ছিল না। স্বাধীনতার পরই ভারতে এই শিল্পের বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়।

 

স্বাধীনতার পর, HNGIL (১৯৫২) , AGI (১৯৭২) ,PIRAMAL (১৯৮৪), ASAHI (১৯৮৭) SAINT GOBAIN (2000) প্রভৃতি কোম্পানি তাদের কাঁচের মিল চালু করে উৎপাদন শুরু করে।

১৯১৩ সালের আগে এই শিল্পে সেভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়নি। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে এই শিল্পে নানা যন্ত্রপাতি আসে।

 

কাঁচ শিল্পের প্রাথমিক অবস্থা

প্রাথমিকভাবে ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয় কাঁচের চুড়ি। আমাদের দেশের নিজস্ব রুচি ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তৈরি করা এই চুড়ি চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে নানা ক্ষেত্রে কাঁচের ব্যবহার বাড়তে থাকে। নানা আসবাবে কাঁচ ব্যবহৃত হয়। ঘর সাজানোর নানা জিনিসে কাঁচ অপরিহার্য। বিভিন্ন ধরণেরপাণীয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বোতলের ক্ষেত্রেও কাঁচের বোতলই অন্যতম ভরসা। এছাড়াও নানা ক্ষেত্রে কাঁচের বহুল ব্যবহার হচ্ছে এবং তা বেড়েই চলেছে। মানব জীবনে কাঁচের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই। একসময় কাঁচ শুধুমাত্র ব্যবহৃত হত জানালায় কিন্তু এখন বাসার দেয়াল নির্মিত হচ্ছে কাঁচ দিয়ে। বর্তমান স্থাপত্যের ধারা এবং প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ভবনে কাঁচের ব্যবহারে এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। বর্তমানে নবায়ন যোগ্য শক্তির উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাই ঘর বাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফটোভোল্টিক কাঁচ।

 

ভারতের কাঁচশিল্প মাঝে কিছুটা সময় বেশ খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে তারপর সময়ের নিয়মেই তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে দেশজুড়ে প্রায় ৯ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সাথে যুক্ত। গোটা দেশে প্রায় ১৭ হাজার ছোট বড় কারখানা আছে যেগুলি কাঁচ শিল্পের সাথে যুক্ত। কাঁচের বিকল্প নানা উপাদান বাজারে এলেও কাঁচের চাহিদা তারা খুব একটা কমাতে পারেনি কারণ প্রথমত কিছু সেক্টর আছে যেগুলিকে কাঁচ অপরিহার্য এবং দ্বিতীয়ত বিশেষ করে কন্টেইনার বা বোতলের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ব্যবহার হলেও এর জন্য পরিবেশ দূষনের মাত্রা এতই বেড়ে গিয়েছে যে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ক্ষেত্রে সকলেই এখন সচেতন হয়েছে। তাই ফের তুলনামূলক কম দূষক কাঁচের দিকেই ঝুঁকছে নানা ইন্ডাস্ট্রি। 

 

কাঁচ শিল্পেও কেরিয়ার গড়ার সুযোগ

 

অন্যান্য পেশার মতো এখন গ্লাস বা কাঁচ শিল্পেও কেরিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাঁচ উৎপাদনে ভারত এখন প্রায় স্বনির্ভর। এই শিল্পে যুক্ত থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্তমানে সারা দেশে কাঁচের বাজার আবার উর্দ্ধমুখী হচ্ছে। প্রতিবছরই এর চাহিদা বাড়ছে। তাই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশেই এখন কাঁচ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। এমনকি দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বর্তমানে ধাপে ধাপে এই কাচ শিল্পের প্রসার ঘটছে। দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি গ্লাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে। -বিদেশের কাচের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উৎপাদনের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা হচ্ছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের। প্রতিবছরই এসব শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানেরও। সেইকারণেসিরামিক নিয়ে পড়াশোনার চলও বাড়ছে। আমাদের রাজ্যের রাজধানী কলকাতাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে - সেন্ট্রাল গ্লাস অ্যান্ডসিরামিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটরয়েছে যেখানে বহু ছেলেমেয়ে এই বিষয়ে গবেষণা করে কাঁচ শিল্পকে প্রতিদিনই সমৃদ্ধ করে চলেছে। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি মহেঞ্জোদারো সভ্যতার সময় থেকেই কাঁচ মানুষের জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল এইসব এলাকায়। কাঁচকে শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার সুচনাকালেরও প্রায় ৩ হাজার বছর হতে চলল এই দেশে। তারপর থেকেই নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আজও কাঁচশিল্প ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প।

You Might Also Like

Our Newsletter

স্কিল নিউজ