ব্রেকিং নিউজ

img/news-single-img/post-img-01.jpg

ছবি বা আলোকচিত্র গণ্য হয় সময়ের দলিল হিসেবে। কারণ আজকের ছবি ভবিষ্যতে ইতিহাস হিসেবেই পরিগণিত হবে। কথায় আছে একটি ছবি হাজার শব্দের সমান,  অর্থাৎ কোনো বিষয়ে হাজার শব্দ খরচ করার পরেও বিষয়টি যতটা না বোধগম্য হয়, সেই বিষয় সংক্রান্ত একটি ছবি হয়ে ওঠে তার দর্পন। সেই কারণেই সংবাদমাধ্যমগুলিও বিভিন্ন ঘটনার প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ছবির ব্যবহার করে। মানুষের মনে শব্দের তুলনায় ছবির প্রভাব অনেকখানি প্রখর। বর্তমানে ফোটোগ্রাফি অনেকের কাছেই একটা ফ্যাসিনেশন। অনেকে যেমন এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তেমনি অনেকে শুধুমাত্র শখ বা প্যাশনের  বশেও ছবি তোলেন। 
 
আসলে ছবি আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি তুলে থাকি। কারণ প্রযুক্তির দৌলতে আমাদের প্রত্যেকের হাতেই  আছে মুঠোফোন এবং তৎসংলগ্ন ক্যামেরা। আবার অনেকের কাছেই রয়েছে ডিজিটাল ক্যামেরা বা ডিএসএলআর। পেশাগত কারণে নয় শুধুমাত্র শখের বশবর্তী হয়েই কিন্তু তারা ক্যামেরাকে সঙ্গী করেছে। তবে শুধু ক্যামেরা থাকলে বা অসম্ভব প্যাশন থাকলেই যে ভালো ছবি তোলা যায়, তা কিন্তু একেবারেই নয়। ফোটোগ্রাফি আসলে একটি শিল্প। সুন্দর ছবি আঁকতে গেলে যেমন অঙ্কনশিল্পের অ আ ক খ জানতে হয়, তেমনি একটি সৃষ্টিশীল ছবি তুলতে গেলে কিন্তু আপনাকে প্রাথমিক কিছু বিষয় সম্বন্ধে ধারণা রাখতে হবে।

 

 

সৃষ্টিশীল ছবির প্রাথমিক কিছু বিষয়


প্রথমেই আসি ছবির বিষয়বস্তুর কথায়- আপনার মন সবসময় এমন কিছুর সন্ধান করবে যা হবে অভিনব,    আপনার দৃষ্টিভঙ্গি হবে অন্য সকলের থেকে আলাদা। এই বিষয়গুলি আপনার তোলা ছবিকে অসাধারণত্ব দান করবে, সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলবে আপনার সৃষ্টিকে। এক অতি সাধারণ বিষয়ও অনন্য এবং দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে একজন চিত্রশিল্পীর শিল্প দক্ষতায়। এর জন্য প্রয়োজন সৃষ্টিশীল অন্তরদৃষ্টি।
ক্যামেরার কারিগরি কিছু দিক সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা অবশ্য প্রয়োজনীয়। অটোমোডে ছবি তুললে ক্যামেরাই নিজের মতো করে সব সেট করে নেয়, কিন্তু তাতে আপনার কোনো কৃতিত্ব থাকবে না। একজন ভালো চিত্রশিল্পী হিসেবে আত্মতুষ্টির আনন্দ উপভোগ করতে হলে আপনাকে অটোমোড থেকে বেরিয়ে ম্যানুয়াল মোডের ব্যবহার শিখতে হবে। একইসঙ্গে আপনাকে জানতে হবে বিভিন্ন শটস, অ্যাঙ্গেল, শাটার স্পিড, এপারচার প্রভৃতি বিষয়গুলি। শটস এর মধ্যে রয়েছে এস্টাবলিশমেন্ট শট, লং শট, মিড শট, রয়েছে বার্ডস আই ভিউ শট ইত্যাদি। যে কোনো বাগানের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে হলে আপনাকে নিতে হবে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল শট আবার কোনো মনুমেন্টের দৃশ্য চিত্রায়িত করতে হলে টিল্ট আপ এবং টিল্ট ডাউন সম্পর্কে জানতে হবে।

 

লেন্সের ফোকাস নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার সাবজেক্ট সবসময় ফোকাসড ইন থাকবে। সাবজেক্ট আউট অফ ফোকাস হয়ে গেলে ছবির শিল্পমূল্য নষ্ট হয়।কোনো ব্যক্তির ছবি তুলছেন যখন, তখন অবশ্যই হেডরুম, ফুটরুম, লুকিংরুম এই বিষয়গুলি নজরে রাখতে হবে। ব্যক্তির মাথার ওপরদিকে কিছুটা জায়গা ছাড়তে হবে এবং পায়ের কাছে সামান্য জায়গা ছাড়তে হবে। একেই বলা হচ্ছে হেডরুম এবং ফুটরুম। এতে ব্যক্তির মাথা বা পায়ের অংশ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। 


ক্যামেরার বদলে যদি ফোনে ছবি তোলেন তাহলেও এই মৌলিক কিছু ধারণা সম্পর্কে আপনাকে সজাগ থাকতে হবে। কোনোভাবেই যাতে হাত কেঁপে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ফোন ক্যামেরা হোক কিংবা ডিএসএলআর যেকোনো ছবির নান্দনিক মাত্রা বৃদ্ধি করতে হলে আলোর ব্যবহার ও তার সঠিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখন প্রাকৃতিক আলো পর্যাপ্ত, কখনই বা ফ্ল্যাশ আলো ব্যবহার করবেন সেটা বোঝার মতো চোখ এবং মন আপনার থাকতে হবে।


সর্বাগ্রে যা প্রয়োজন তা হল কৌতূহল এবং আগ্রহ। আপনি যদি ফোটো তুলতে ভালোবাসেন এবং বিষয়টির প্রতি আপনার অসীম আগ্রহ থাকে, জানার কৌতূহল থাকে তবেই আপনি পাবেন প্রাপ্তির আনন্দ। এই ভালোবাসা, এই প্যাশনই আপনাকে উন্নীত করবেন একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার এর পদমর্যাদায়। শুধুমাত্র প্র্যাক্টিস, অভিজ্ঞতা এবং প্যাশনের দৌলতে প্রশিক্ষিত না হয়েও অনেক ব্যক্তি নিজেদের প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করেছেন। তাই উৎসাহী পাঠকদের উদ্দেশে নিবেদন নিজেদের প্যাশনকে এক অন্যমাত্রা দিতে নেমে পড়ুন ফোটোগ্রাফির যজ্ঞ অর্চনায়।

You Might Also Like

Our Newsletter

স্কিল নিউজ